Academy

সম্প্রতি কাশিশ্মর সীমান্তের সমস্যা নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। দুটি দেশের শাসকগোষ্ঠী একে অপরের। বিরুদ্ধে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করে। দুটি দেশের প্রচার মাধ্যমগুলোও পরস্পরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। দুটি দেশের জনগণ যুদ্ধের আশঙ্কায় সময় কাটায়। দেশ দুটির সেনাবাহিনী সামরিক মহড়া। দিলেও শেষপর্যন্ত যুদ্ধ হয়নি।

উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টির সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কোন বিষয়ের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর। (প্রয়োগ)

Created: 3 days ago | Updated: 3 days ago
Updated: 3 days ago
Ans :

উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টির সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী স্নায়ুযুদ্ধের মিল পাওয়া যায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন আদর্শগত কারণে পরস্পরের প্রতিপক্ষে পরিণত হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিবাদের ব্যাপক প্রসারে উদ্বিগ্ন হয়ে মিত্রপক্ষের মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল সকল বিভেদকে দূরে ঠেলে সোভিয়েত রাশিয়াকে মৈত্রী জোটে গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরই রুজভেল্টের মৃত্যু এবং উইনস্টন চার্চিল ক্ষমতাচ্যুত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে যথাক্রমে হ্যারি এস. ট্রুম্যান ও এটলি ক্ষমতাসীন হন। এ দুইজন পূর্বতন দুইজন বিশ্ব নেতার চেয়ে অনেকটা অদূরদর্শী এবং অসহনশীল রাজনীতিবিদ ছিলেন। ফলে মিত্রপক্ষের বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মাঝে বিশ্বযুদ্ধকালীন যে সমঝোতা ছিল তা বিনষ্ট হয়।

রাশিয়া তার পশ্চিম সীমান্ত পথে বরাবরই জার্মানি দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার হুমকির মুখে ছিল। এজন্য ইয়াল্টা বৈঠকে (১৯৪৫ সালে) স্ট্যালিন উল্লেখ করেছিলেন যে পোল্যান্ড, রুমানিয়া তথা বাল্টিক সীমান্ত পথে রাশিয়া তার প্রতি মিত্রভাবাপন্ন সরকার ছাড়া অন্য কোনো সরকারকে মেনে নেবে না। ঐতিহাসিক আইজাক ডয়েৎসের মতে, 'রাশিয়ার এ নীতি ছিল তার আত্মরক্ষার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।' এজন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ কয়েক মাস সোভিয়েত ইউনিয়নের সামরিক বাহিনী মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের সম্পূর্ণ অংশ দখল করে নেয়। রুশ বাহিনী পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর কমিউনিস্ট দলগুলোকে সাহায্য করতে থাকে। এদিকে পেন্টাগনের সামরিক আমলাবর্গও পূর্ববর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের উদারনীতির প্রতি প্রসন্ন ছিলেন না। তারা নতুন। প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যানকে সোভিয়েত রাশিয়ার প্রতি কড়া নীতি প্রয়োগের জন্য প্ররোচিত করেন। এর ফলে রুশ-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে।

3 days ago

ইতিহাস

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

গ্লাসনস্ত নীতির প্রবক্তা সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান মিখাইল গর্বাচেভ

2 বার্লিন অবরোধ কী? (অনুধাবন)

Created: 3 days ago | Updated: 3 days ago
Updated: 3 days ago

মার্শাল পরিকল্পনা ও ট্রুম্যান তত্ত্বের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের পদক্ষেপ হলো বার্লিন অবরোধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর রাজধানী বার্লিনকে ৪ ভাগে ভাগ করে শাসন শুরু হয়।আমেরিকা, ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ড তাদের অধিকৃত পশ্চিম বার্লিনে সংযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র গঠনের উদ্যোগ নিলে রাশিয়ার স্ট্যালিন ক্ষুব্ধ হয়ে পশ্চিমের সাথে পূর্বের সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়। এ অবরোধ প্রায় ১১ মাস ধরে চলার পর স্ট্যালিন প্রত্যাহার করে নেয়।

উদ্দীপকে বর্ণিত অবস্থানটি আমার পাঠ্যবইয়ের ন্যাটো এবং ওয়ারশ জোট গঠনের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।

স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময়ে শক্তির মহড়া দিতে এবং পুঁজিবাদী ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রসারের মাধ্যমে সমাজতন্ত্রকে প্রতিহত করতে ১৯৪৯ সালে ন্যাটো গঠিত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সে সময় ১২টি দেশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ন্যাটো সামরিক জোট। এ জোটের সব দেশ ছিল পুঁজিবাদের সমর্থক এবং সমাজতন্ত্রের বিরোধী। সামরিক দিক থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নকে চাপে রাখা এর মূল উদ্দেশ্য ছিল।

অপরদিকে, সামরিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে ন্যাটোর বিরুদ্ধে সমাজতান্ত্রিক দেশসমূহ পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ওয়ারশ কোট গঠন
করে। প্রকৃতপক্ষে, ন্যাটোর কার্যাবলি চ্যালেঞ্জ করার জন্য ওয়ারশ জোট গঠিত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহের আত্মরক্ষামূলক প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করার জন্য ১৯৫৫ সালে এ জোট গঠিত হয়।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের যমুনা নদীর তীরবর্তী সালেমপুর ও মকসুদপুর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই গ্রামের সাথে পাঠ্যবইয়ের ন্যাটো ও ওয়ারশ জোটের সাদৃশ্য রয়েছে।

উক্ত অবস্থাটি অর্থাৎ স্নায়ুযুদ্ধ বিশ্বকে দুটি মেরুতে বিভক্ত করেছিল বলে আমি মনে করি।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৭ সালে বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে রাশিয়ায় বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা পায়। এরপর লেনিন ও স্ট্যালিনের দক্ষ নেতৃত্বে সাম্যবাদ শুধু রাশিয়ায় নয়, বিশ্বের অনেক দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়। এজন্য সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে। অল্প সময়ে পার্শ্ববর্তী ১৫টি রাষ্ট্র নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠিত হয়। এর পরিধি ক্রমেই বাড়তে থাকে। অপরদিকে, পুঁজিবাদী রাষ্ট্রসমূহ নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যই সাম্যবাদের গতিরোধ করতে গিয়ে স্নায়ুযুদ্ধের জন্ম দেয়। স্নায়ুযুদ্ধ ধীরে ধীরে প্রকট আকার ধারণ করতে শুরু করে। এর ফলে Bipolar System প্রতিষ্ঠিত হয়। যার মূল ধারণা ছিল দ্বিমেরুকরণ। বৈশ্বিক রাজনীতিতে এ দ্বিমেরুকরণের প্রভাব বহু বছর ধরে বিদ্যমান থাকে।
সুতরাং বলা যায়, উক্ত বিষয়টি অর্থাৎ- স্নায়ুযুদ্ধ বিশ্বকে দুটি মেরুতে বিভক্ত করেছিল।

6 গ্লাসনস্ত' বলতে কী বোঝ? (অনুধাবন)

Created: 3 days ago | Updated: 3 days ago
Updated: 3 days ago

গ্লাসনস্ত শব্দের অর্থ মুক্তাবস্থা বা Open Air. ১৯৯০ সালে সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ মানবাধিকার ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য যে মুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন, ইতিহাসে তাই গ্লাসনস্ত নামে পরিচিত। বিদ্যমান সোভিয়েত ইউনিয়ন থাকবে কিনা বা এর পতনের পক্ষে-বিপক্ষে মুক্ত আলোচনার লক্ষ্যে ঐতিহাসিক এ পদক্ষেপটি গৃহীত হয়।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...