সম্প্রতি কাশিশ্মর সীমান্তের সমস্যা নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। দুটি দেশের শাসকগোষ্ঠী একে অপরের। বিরুদ্ধে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করে। দুটি দেশের প্রচার মাধ্যমগুলোও পরস্পরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। দুটি দেশের জনগণ যুদ্ধের আশঙ্কায় সময় কাটায়। দেশ দুটির সেনাবাহিনী সামরিক মহড়া। দিলেও শেষপর্যন্ত যুদ্ধ হয়নি।
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টির সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী স্নায়ুযুদ্ধের মিল পাওয়া যায়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন আদর্শগত কারণে পরস্পরের প্রতিপক্ষে পরিণত হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিবাদের ব্যাপক প্রসারে উদ্বিগ্ন হয়ে মিত্রপক্ষের মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল সকল বিভেদকে দূরে ঠেলে সোভিয়েত রাশিয়াকে মৈত্রী জোটে গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরই রুজভেল্টের মৃত্যু এবং উইনস্টন চার্চিল ক্ষমতাচ্যুত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে যথাক্রমে হ্যারি এস. ট্রুম্যান ও এটলি ক্ষমতাসীন হন। এ দুইজন পূর্বতন দুইজন বিশ্ব নেতার চেয়ে অনেকটা অদূরদর্শী এবং অসহনশীল রাজনীতিবিদ ছিলেন। ফলে মিত্রপক্ষের বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মাঝে বিশ্বযুদ্ধকালীন যে সমঝোতা ছিল তা বিনষ্ট হয়।
রাশিয়া তার পশ্চিম সীমান্ত পথে বরাবরই জার্মানি দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার হুমকির মুখে ছিল। এজন্য ইয়াল্টা বৈঠকে (১৯৪৫ সালে) স্ট্যালিন উল্লেখ করেছিলেন যে পোল্যান্ড, রুমানিয়া তথা বাল্টিক সীমান্ত পথে রাশিয়া তার প্রতি মিত্রভাবাপন্ন সরকার ছাড়া অন্য কোনো সরকারকে মেনে নেবে না। ঐতিহাসিক আইজাক ডয়েৎসের মতে, 'রাশিয়ার এ নীতি ছিল তার আত্মরক্ষার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।' এজন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ কয়েক মাস সোভিয়েত ইউনিয়নের সামরিক বাহিনী মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের সম্পূর্ণ অংশ দখল করে নেয়। রুশ বাহিনী পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর কমিউনিস্ট দলগুলোকে সাহায্য করতে থাকে। এদিকে পেন্টাগনের সামরিক আমলাবর্গও পূর্ববর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের উদারনীতির প্রতি প্রসন্ন ছিলেন না। তারা নতুন। প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যানকে সোভিয়েত রাশিয়ার প্রতি কড়া নীতি প্রয়োগের জন্য প্ররোচিত করেন। এর ফলে রুশ-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?